আপনি কি গত অর্থবছর (২০২৩-২৪) আপনার আয়কর রিটার্ন জমা দিয়েছেন? তাহলে এই খবরটি আপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং কর ফাঁকি রোধে একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। সম্প্রতি এনবিআর ঘোষণা করেছে যে, তারা গত অর্থবছরে জমা পড়া রিটার্নগুলোর মধ্যে ৭২,৩৪১টি রিটার্ন বিস্তারিত অডিটের (Audit) জন্য নির্বাচন করেছে।
মূল ঘটনা কী?
সাধারণত আমরা যখন আয়কর রিটার্ন জমা দিই, তখন অনেক ক্ষেত্রে ‘সেলফ-অ্যাসেসমেন্ট’ বা স্বনির্ধারণী পদ্ধতিতে জমা দিই। এনবিআর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং নির্দিষ্ট কিছু প্যারামিটার ব্যবহার করে এমন সব রিটার্ন খুঁজে বের করেছে যেগুলোতে তথ্যের গরমিল থাকার সম্ভাবনা আছে। এই ৭২ হাজারেরও বেশি রিটার্ন এখন কর কর্মকর্তাদের দ্বারা গভীরভাবে যাচাই করা হবে।

কেন এই অডিট?
এনবিআর-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং প্রকৃত আয় গোপন করার প্রবণতা বন্ধ করতেই এই অডিট কার্যক্রম। অডিটের জন্য নির্বাচিত রিটার্নগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ব্যক্তিগত আয়কর দাতা
- বিভিন্ন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান
- উচ্চ আয়ের করদাতাদের ফাইল
আপনার ফাইলটি অডিটে পড়লে কী হবে?
আপনার রিটার্নটি যদি অডিটের জন্য নির্বাচিত হয়, তবে ঘাবড়ে যাওয়ার কিছু নেই। তবে আপনাকে কিছু প্রস্তুতি নিতে হবে:
১. নোটিশ চেক করুন: এনবিআর থেকে আপনার নিবন্ধিত ঠিকানা বা ইমেইলে নোটিশ পাঠানো হতে পারে।
২. নথিপত্র গুছিয়ে রাখুন: আপনার আয়ের উৎস, ব্যাংক স্টেটমেন্ট, বিনিয়োগের প্রমাণ (সঞ্চয়পত্র বা ডিপিএস) এবং ব্যয়ের ভাউচারগুলো গুছিয়ে রাখুন।
৩. তথ্যের সঠিকতা: যদি তথ্যে কোনো ভুল থাকে, তবে কর আইনজীবীর (Tax Consultant) পরামর্শ নিন।
ভবিষ্যতে অডিট এড়াতে যা করবেন:
১. সঠিক তথ্য দিন: আয়ের প্রতিটি উৎস স্পষ্টভাবে উল্লেখ করুন।
২. ব্যয় ও সম্পদের সামঞ্জস্য: আপনার জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সম্পদের পরিমাণ যেন আয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।
৩. সময়মতো রিটার্ন জমা: প্রতি বছর সময়মতো এবং নির্ভুলভাবে রিটার্ন জমা দেওয়ার অভ্যাস করুন।
ডিজিটালাইজেশনের এই যুগে এখন কর ফাঁকি দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ছে। এনবিআর-এর এই কঠোর অবস্থান প্রমাণ করে যে তারা রাজস্ব আদায়ে আরও বেশি সক্রিয়। তাই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সঠিক তথ্য দিয়ে রিটার্ন জমা দেওয়া এবং দেশের উন্নয়নে অংশ নেওয়া আমাদের দায়িত্ব।


